রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পাকড়ী, রিশিকুল, গোগ্রাম, মাটিকাটা, দেওপাড়া, বাসুদেবপুর ও আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলেও পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই তা অনুমোদন দেওয়া হয়। একাধিক জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কমিশন না দিলে বিল প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা তৈরি করা হয়, ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কমিশন বাণিজ্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোসাঃ শাহনাজ বেগম বলেন, পিআইও কমিশন না নিয়ে কাউকে ছাড় দেন না। প্রকল্পের শুরু থেকে বিল উত্তোলন পর্যন্ত কয়েক ধাপে কমিশন দিতে হয়। বিল উত্তোলনের সময়ও তাকে মোটা অংকের টাকার বান্ডিল দিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্পের মাধ্যমে গোদাগাড়ির টাকা গোদাগাড়িতেই রেখে রাখি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
এ জাতীয় আরো খবর..